তিবুরা: চাঙমা লেঘার পইদ্যানে পরাক পরাক হয়েকখান হধা

 

আকহধা

তিবুরাত চাঙমাগুনোর জননাদা প্রায় এক লাখর ইন্ধি-উন্ধি। ১৯-চো উপজাতির মধ্যে চাঙমাঘুন জননাদাধি দি নম্বর আ গদা তিবুরাত চাঙমাঘান তিন নম্বর ডাঙর ভাষা। তিবুরার লোকসংখ্যার ৩% আ উপজাতি লোকসংখ্যার ১২.৫% চাঙমা। বেচভাক চাঙমা তিবুরার দেরগাঙ, মনুগাঙ, ফেনীগাঙর হুরে হারে আদামানিত বজত্তি গত্থন। মোটামুটি রাজা কৃঞ্চ মানিক্যর আমলত্থুন ধরি (১৭ শ শতক) গুমেদত আ ১৮ শতকর শেজত্থুন ধরি দেরগাঙত চাঙমাগুনোর বজত্তির বিজগী মাজারা তোগেই পা’ যায়। পড়া-শুনোধি তিবুরার চাঙমাঘুন সারেপারা আক্কোলেয়ো উবর হাবর পেশা বা সরকারী চাগরীত তারা এভ’ লেমপোচ্যে। গদা তিবুরাত বানা ১৫ জন চাঙমা টিসিএস/টিপিএস, চের জন বানা কলেজর মাস্টর, হন’ আইএএস অফিসার নেই, এক জন বানা উকিল – ইয়েনিয়ে গমেদালে চাঙমাগুনোর উনোঘান ফগদাঙ গরে। রাজনীতিদিধ’ তারা আর’ বেচ লেমপোচ্যা। চের পাচ্যান এডিসি/বিধানসভা সিদোত চাঙমাঘুনোর জয়-পরাজয় ঠিক গরিভার ক্ষমতা থেলেয়ো তারা হন’ দিন এক্কানত্থুন বেচ কেন্দ্রত – সিয়ে এডিসি ওহ্ক বা বিধানসভা, হন’ দিন জু ন’ পা’ন। তিবুরার চাঙমাগুনোর নিজস্ব হন’ রাজনৈতিক দল নেই বা এমন হন’ দলো নেই যিবে চাঙমা হজমা নেতাগুনোরে লারেগরি রাজনীতি শিগি নেতা ওবার সুযোগ দিবো। যার ফলে ইধু নেতা অনাগান বেজাদি নেতাগুনোর দয়ের উগুরেই ভর গোচ্যে। সেনত্যায় তারা নিজর জাদর সুখ-দুগোর হধা যেত্তোমান ভাবন সিত্থুন বেচ ভাবদে বাধ্য অন হি গরিলে ‘উতারা’ খুজি ওবাক। আর ঠিক ইয়োদই তিবুরার চাঙমাগুনোর বে’ক ফ্রন্টত অহ্দি যেবার শুরু।

চাঙমা লেঘা হেত্তেই দরকার

আমি যে যে কারনে চাঙমা লেঘার পক্ষে সওয়াল গরিই তার হয়েকখান মুলুক কারন অলদে :-

ক) চাঙমা লেঘাগান বানা চাঙমাগুনোর নয় গদা ভারদরই পুরোনি পোতপোত্যা সভ্যতার একখান মাজারা। গদা ভারদত প্রায় এক আহ্জারর হাজাহাচ্যা হধা থেলেয়ো উকখোর আঘন ২০ বাবদরো হম। ভারত সরকারে পুরোনি বিজগী মাজারাগানি বাজেই রাগেবাত্যায় যদি কোটি কোটি তেঙা খরচ গরি পারে সালে চাঙমা লেঘা বাজেই রাগেবাত্যায় হেত্তেই হয়েক লাখ টেঙায়ো খরচ গরি ন’পারিবো ? ভালক্কানি ডাঙর ডাঙর ভাষা আঘে যিয়েনির হন’ নিজর অরক নেই। চাঙমা উক্কোরুন আমা জাদর বার গরি পারে পারা পুরোনি বিজগর চিন্নক ভিলি আমি মনে গরিই। সেনত্যায় সিঘুন ধরি রাঘানা আমা জাদর আরাঙ ধক্কান বজায় রাগেবাত্যায় এগ’পরা দরকার। ভারদর সংবিধানর ২৯(১) ধারাত পোতপোত্যা গরি তুলোপারা আঘে, যে হন’ জাদর নিজর ধগর ভাষা, লেঘা আ বা সুধোম থেলে সিয়েনি বাজেই রাঘেবার তারার অধিকার থেব’ (29(1) Any section of the citizens residing in the territory of India or any part thereof having a distinct language, script or culture of its own shall have the right to conserve the same.)। সেনত্যায় এ ওকখোরুন বাজেই রাঘেবাত্যায় চাঙমাগুনো লঘে কেন্দ্র আ রেজ্য সরকাররো উজেই এজানা দরকার।

খ) চিগোন জাত অনার কারনে চাঙমাগুনে বিজগর নাললো নিজ’ সুবিধেমত ফিরেই ন’ পারন। উগুধো, বিজগে তারারে থুত্যা বোয়েরর সান বার বার উড়েই নেযেয়ে যিন্নি মনে হয় সিন্নি। ১৪ শতকর আগে একদল আমাত্থুন ছিনি রোয়োন বার্মার (ইক্কুনুর মায়ানমার) আরাকান বামত। তারা দৈংনাক্যা নাঙে পরেধি নাঙ হোলেয়োন। আ আমারে নাঙ দুওন আনক্যা মানে পঝিম কুল্যা। ইক্কুনু যেমন দেঝকুল্যা চাঙমাগুনে তিবুরার চাঙমাগুনোরে হন উত্তর কুল্যা। ১৬-১৭ শতকত দৈংনাক্যা চাঙমাগুনোর ইক্কো দল আরাকানত্থুন এনেই আমা লঘে জুক দুওন্নি। সিগুনোই পরেধি তোঙতোঙ্যা নাঙে চিনপচ্য ওহ্য়োন। ১৯৪৭ সনত ভারত স্বাধীনর লক্কে মনে মনজক্কা গরি আমা দেশচান ভাক গরি দুওন। হিঝু চাঙমা বাম পচ্ছে তিবুরার লঘে আ হিঝু চাঙমা বাম মিজোরাম (সেক্কেনর আসাম প্রদেশ)-র লঘে। বেচভাক চাঙমা যে বামত রই গেলাক সে হিল চাদিগাঙান সিধুগোর মানুশচুনোর মনর হধা থুবি মারি ফেলেই দিনেই সিয়েন ভরেই দিলাক মুসলিম জাতীয়তাবাদী দেঝ পাকিস্থানর ভিদিরে। সে বাদে বড়গাঙর গধা পানিত ডুবো খেই ১৯৬৪ সনত প্রায় ৪০ আহ্জার চাঙমা (যিঘুন ইক্কুনু ১ লাখ) ভারদত পার ওনেই অরুনাচল প্রদেশ (সেক্কেনর NEFA) -ত পরঙ ওহ্ই পেয়োন্নি। একলঘে এই ইধুক্কো মানুঝোর পরঙ অনাগান ‘বড় পরঙ’ ঈজেবে নাঙ পেয়ে।

এই যে বিজগর ঘুলোন্যাত পড়ি দেঝে-বিদেঝে চাঙমাঘুন ছিনেছিন্যে ওহ্ই পোচ্যন, যার ফলে তারা পত্তি বামত নাদাগুলেগত পরিনত ওহ্ই পেয়োন। পত্তি বামর ভৌগোলিক ভেইল মজিম তারার খাচ্যেক, উড়োন-পিনোন, হধা বদলি যেয়েগোই। মাত্তর ভেক্কানি বদলি যেনেয়ো দিয়েন জিনিচ এভ’ সঙ তারা বুঘোত আজা গরি রাঘেয়োন – সিত্থুন একখান অলদে বুদ্ধ ধর্মঘান আরক্কান এ চাঙমা লেঘাগান। আমা আনক্যাগুনোসান তোঙতোঙ্যা আ দৈংনাক্যাগুনেয়ো এভ’ সঙ এগই চাঙমা লেঘা লারচার গরন। সেনত্যায় চাঙমা লেঘাঘান আমা গদা পিত্থিমির চাঙমাগুনোর মিলিবার – আনক্যা-তোঙতোঙ্যা-দৈংনাক্যায় মিলিবার একখান দবদবা পধ ওহ্ই পারে।

গ) ইক্কো জাদর দি বাবদর অরক ওহ্ই ন’পারে। যদি অহ্য় সালে তারার বৌদ্ধিক (Intellectual) সম্পত্তিগানি ভাক ওহ্ই যাদে বাধ্য। আমি যদি বাংলাধি লেঘা-লেঘি গরিই – মিজোরাম আ অরুনাচলর চাঙমাগুনে পড়ি ন’ পারিবাক। আ তারা রোমান অরক্কোই চাঙমা হধা লেগিলে আমি সেত্তোমান জুত গরি পড়ি ন’ পারিবোঙ। ওক্কোর ফারক অহ্লে মনো ফারক ওহ্ই যেব’। সিঙিরি আমা ভিদিরে ফারক্কান আর’ বেচ অঝার অহ্ব’। সিয়েন ন’ ওহ্বাত্যায় আমার হামাক্কায় চাঙমা লেঘাঘান ভেক্কুনোর ঝাদিমাদি লারচার গরিভার আক্যাং গরিভার দরকার।

ঘ) বে’ক শিক্ষে কাবিলুনে হোই যেয়োন চিগোন অবুঝ গুরোরে শিক্ষের পত্থম হাবত শিক্ষে দেদে নিজর হধার সান গম আর হিচ্ছু ওহ্ই ন’পারে। সেনত্যায় আমি চাঙমা বামর প্রাথমিক স্কুলানিত চাঙমা হধাদি শিক্ষে চালু গরিভার দাবী বার বার তুলিই। আর চাঙমা হধাদি শিক্ষে দেদে হামাক্কায় দরকার চাঙমা লেঘা। যার যে ভাষার একখান নিজস্ব ধক থায়। সে ধকমজিম শদেশত বঝর ধরি আক্যাঙত্থুন তারার নিজস্ব মুওর হধানি লিঘিবাত্যায় নিজে ওকখোর বানান আ নয় হন’ জাদত্থুন গঝি লন। পর’ জাদত্থুন গঝি ললেয়ো পল্লাত পল্লাত সিঘুন লারচার গরানার ফলে তারার এমন একখান ধার বঝে অন্য ওকখোরলোই পরেধি আর ঠে খাবেই ন’পারে। সেনত্যায় পয়নাঙী চাঙমা হধা হাবিল সুনানু জয়ন চাঙমা হয়, চাঙমা লেঘা ছাড়া চাঙমা হধা শুদ্ধ গরি লিঘি ন’পারে। আর চাঙমা লেঘা ছাড়া চাঙমা গ্রামার বানায়ো উদোল দড়িলোই খাচ্যাঙ বুনে পারা অহ্য়। চাঙমা হধার verb-পুনোর যে root সিগুন ছাগি লোই পারে একমাত্র চাঙমা লেঘাধি ভাঙিলে। সে বাদেয়ো, বাংলা ভাষা যেমন রোমান অক্ষরেধি শিগেনা আহ্জি এঝে পারা, ইংরেজী ভাষা দেবনাগরী ওক্কোরেধি শিগেনা ভাবি ন’পাচ্ছে, ঠিক সেজান চাঙমা হধায়ো বাংলা ওক্কোরেধি শিগেনা মানি লোই ন’পাচ্ছে। আমা বুদ্ধিজীবীঘুন ভালোকভিলোম ধরি চাঙমা হধা লেঘদে বাংলা অহ্রক লারচার গত্থন হেনেই সিয়েন চোঘোত ন’পরে, মাত্তর ভাবিলে ব্যাপারান এগই।

ঙ) ভারদর সেন্সাস রিপোর্টত চাঙমাগানরে বাংলা ভাষার একখান ধেলা ঈজেবে দেঘানি অহ্য়। ২৫ জন বানা লোকসংখ্যার আন্দামানিজ ভাষার ভারদর সেন্সাস রিপোর্টত আলাদা গরি নাঙ আঘে, খামিয়াং, গোদাবরী, পশ্চিম গুরুং, ওঙ্গে, মুগোম – এ চিগোন চিগোন ভাষাগানির নাঙ আঘে – ইয়েনির লোকসংখ্যা ভেক্কানির ১০০ -র ভিদিরে, হিন্তুু গদা ভারদত চের লাখ লোকসংখ্যার চাঙমা ভাষাগানর নাঙ নেই। কমিশনার অফ লিঙ্গুইস্টিক মাইনরিটিজ অফ ইন্ডিয়ায়ো চাঙমাগানরে আলাদা ক্লাসিফায়েড ল্যাঙ্গুয়েজ ভিলি মান্য ন’গরে। ইয়েনির ভেক্কানির কারন অহ্লদে আমার বাংলাধি লেঘা-লেঘি গরানা। বেজাদি গবেষক্কুনে চাঙমা হধার নমুনা কালেকশন গরিলে সিয়েনি বাংলাধি লেঘা অহ্নার কারনে তারা সিয়েনি খুব সহজে পড়ি পারন আ দেঘন বেচভাক হধানি বাংলাধি মিলে। যার ফলে তারার উজু সিদ্ধান্ত অহয় চাঙমাঘান বাংলার উপভাষা। আমি যদি পত্তমত্থুনধরি চাঙমাধি লেঘা-লেঘি গরিদোঙ সালে নমুনাঘান দেঘানার লগে লগেই – ইয়েন একখান পুরোপুরি জুদো ভাষা – এ হধাগান গবেষক্কুনোর মনত হামাক্কায় জাগিলুন। সেনত্তেই আমা ভাষাগান যে জুদো একখান আলাদা ভাষা, ইয়েন কন’ বাংলার উপভাষা নয় এ হধাগান প্রমান গরিবাত্তেই আমার চাঙমা ওক্কোরুন বেজ গরি লারচার গরিভার দরকার আঘে।

তিবুরাত চাঙমা লেঘা আন্দোলন

ভাবিলে অক্তে অক্তে আমক ওহ্ই পায় যে, জিয়েনত্তে আঝলে আমার হন’ আন্দোলনরই দরকার ন’ এল’ সিয়েনত্তে আমি আন্দোলন গরি পে’র। আর ইয়েনো সত্য যে আন্দোলন বলতে জিয়েন বুঝোয় সে বাবদর হন’ আন্দোলন চাঙমাগুনোর তপ্পেত্তুন এভ’সঙ তিবুরাত হন’ দাবী আদায়ত্তেই হন’ কালেই ন’ অহয়। জিয়েন ওহ্ইয়ে সিয়েন অহ্লদে অক্তে অক্তে ঈদোত তুলি তুলি হয়েক জনে মিলিনেই মন্ত্রীগুনোসিধু ডেপুটেশন দেনা। সিত্তুন বেচ আক্কোদে পাদারা চাঙমা মনত পুঝোর জাগে, ‘‘ও তারা হি ভাবিবাক ?’’ যা ওহ্ক, আন্দোলন গরা ন’পরে হঙর এ কারনে :-

১) স্কুলোত চাঙমা হধা চালু অহ্লেদ’ গারেগায় চাঙমা লেঘা চালু ওহ্বার হধা। ইংরেজচুনে হি ভারদত পত্থম সলাত ইংরেজী শিক্ষে চালু গরদে হন’ প্রচলিত ওক্কোরলোই ইংরেজী শিগেবার চেষ্ঠা গচ্যন ? নাহি হন’ ভারতীয় ভাষা সে ভাষার ওকখোর ফেলেনেই জুদো বাবদর ওকখোরদি শিগেনা শুরু গচ্যন ? ভাষা চালু অহ্লে সে ভাষার যদি নিজস্ব ওকখোর থান সিঘুন চালু ওহ্বাগোই।

২) তিবুরা সরকারর মন্ত্রীত্থুন ধরি আমলাসঙ বেঘে বার বার হোয়োন চাঙমা ভাষা ভালেদী শল্লাদারী কমিটিয়ে (Advisory Committee for Development of Chakma Language) সুপারিশ গরিলে তারার চাঙমা লেঘা চালু গত্তে হন’ আপত্তি নেই। সে শল্লাদারী কমিটির মানুচ্যুন ভেক্কুন চাঙমা। আমার আমন’ মানুচ। সেনত্যায় আমাত্তুনোই আমি চাঙমা লেঘাগান মাঘি পে’র। জিয়েন আঝলে আমনরে চিতপুরেপারা।

এবার তেকহাবাগরি চাঙমা লেঘা দাবীর পত্থান এক্কেনা পিঝেদি ফিরি রিনি চা’ যোক। পত্থম সলাত ১৯৭৪-৭৫ সনত যেক্কে সুনানু মোহিনী মোহন চাঙমাদাঘি স্কুলোত প্রাইমারী থরত চাঙমা সাবজেক্ট চালু গরিভার দাবীঘান তুল্যন সেক্কেনে বাংলা অহ্রক্কুন হিয়ো জনর মনদো ন’এলাক। এ জাগুলুক্কান পত্থম ভেদা দিয়ে ১৯৮৩ সনর ১১ নভেম্বর যেক্কে সরকারে পত্থম বারত্তেই অনিল কুমার চাঙমারে সভানানু গরি চাঙমা ভাষা ভালেদী শল্লাদারী কমিটি বানেয়ে। সেক্কে তে পত্থম বারত্তেই এডিসি মেম্বার ওয়ে। গাবুচ্যা, তোকতোক্যা কার্বারী। সিইএম নারায়ন রুপিনী আ শিক্ষেমন্ত্রী দশরথ দেবর লগে দোল উধন-বঝন। শল্লাদারী কমিটির সভানানু ওহ্নেই তে আরকানি নেযেল’ ইস্কুলোত চাঙমা ভাষা চালু গরিভার। মাত্তর জোল বোদিলো বই ছাবেবার হধা উধিনেই। হিঙিরি ছাবেব’ চাঙমা বই ? চাঙমা লেঘা ছাবেবার হন’ প্রেসধ’ নেই ? সে বারদই পত্থম প্রস্তাব উত্থে চাঙমা লেঘার বদলে নাহি বাংলা অহ্রক লুও অহ্ব’ ? জাগুলুক সির নেযেবাত্যায় শল্লাদারী কমিটিয়ে ১৯৮৪ সনর ২১ আ ২২ জানুয়ারী মাছমারাত বিরেট গরি সম্মেলন ডাগিলো। সম্মেলনত দেঘা গেল’ বাংলা অহ্রগর পক্ষে হন’ জন নেই, ভেক্কুনে চাঙমা লেঘার হিত্যাধিই রায় দিলাক। অনেগে এমনই হুমকি দিলাক যদি বাংলা ওকখোরধি বই ছাবানি অহয় সালে সিঘুন তারা পুড়ি ফেলেই দিবাক। সে গন্ডগুলোত অনিল চাঙমা তার এডিসি মেম্বার থেবার সময়ানত (১৯৮৩-৮৮) আর চাঙমা লেঘা চালু গরি ন’পারিলো।

১৯৮৮-৯২ সঙ তিবুরার ক্ষমতাত এল’ কংগ্রেস-টিইউজেএস জোট সরকার। চাঙমাগুনোত্থুন এমএলএ এল’ ধনীছড়ার সুশীল কুমার চাঙমা। তে চাঙমা লেঘা চালু ন’ অহ্নার কারন আমলাগুনোর তাল বাহানা ভিলি মনে গরে। সে সময়দই শুনো যেয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে নুও ওকখোর চালু গরদে ভিলে হি কেন্দ্রর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকর অনুমোদন লাগে। এমএলএ নানুর নেতৃত্বেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক’ লঘে যোগাযোগ গরি জানা গেল’ নুও ওকখোর যদি সে জনগোষ্ঠীয়ে চান্নে অহয় সালে তারার হন’ আপত্তি নেই। হিন্তু সুশীল কুমার চাঙমায়ো তা আমলত চাঙমা লেঘা চালু গরি ন’পারে।

এ বে’ক ঘটনানিয়ে চাঙমা ভাষা আন্দোলনানরে বদলি দিনেই বানেয়ে চাঙমা লেঘা আন্দোলন। চাঙমাগুনে আর চাঙমা ভাষা চালু গরিভার দাবী ন’গরন, বদলে দাবী গরন চাঙমা ওক্কোর চালু গরিভার।

১৯৯৩ সনত আর’ ফিরি এল’ অনিল কুমার চাঙমার আমল। এবার তে এডিসি মেম্বার নয় এমএলএ। এর মধ্যে অভিজ্ঞতা তার যেমন বাচ্যে ক্ষমতায়ো বাচ্যে। এ সময়দই তার নেতৃত্বে নুও দমগে চাঙমা লেঘা চালু গরিভার আরকানি গরিবাত্যায় যেনেই ঘদি গেল’ তিবুরার চাঙমা লেঘা আন্দোলনর বেঘত্থুন রহস্যজনক ঘটনাঘান।

ঘটনার শুরু ০৮-১০-১৯৯৩ তারিগোত। সেদিনর শল্লাদারী কমিটির বৈঠগত চেরান সিদ্ধান্ত লুও ওয়ে। ১) চাঙমা লেঘাদি প্রাথমিক থরর বই বানানা আ চাঙমা অহ্রক্কুন স্বীকৃতি দিবাত্যায় সরকাররে হোজলী গরানা, ২) চাঙমা লেঘা চালু গরিভার পইদ্যানে দোলেই জানিবাত্যায় ইক্কো টিম সিএডিসি পাধানা, ৩) চাঙমা টেকস্ট বই বানেবাত্যায় দি জন চাঙমা ভাষা কাবিল ডেপুটেশনে লেঙ্গুয়েজ সেলত আনানা আ ৪) ট্রাইবেল লেঙ্গুয়েজ সেলর অফিসচান নুও জাগাত নেযানা। (সেক্কেনে টিএলসি অফিসচান উমাকান্ত হোস্টেলর হুরে উমাকান্ত স্কুলোরই দিব্যা-তিন্নো গুধি লোনেই এল’)

মাত্তর আমক ওহ্বার হধা, এ সিদ্ধান্তগানির শেজর দিয়েন কার্য্যকরী অহ্লেয়ো পত্থম দিয়েন আঝল সিদ্ধান্ত আর বহন’ দিন বাস্তবায়ন ন’ অহ্য়। হেত্তেই ন’ অহ্য় সে পইদ্যানে জেরর মিটিঙানিত বার বার হধা তুলো ওয়ে। মাত্তর সিয়েনি বাস্তবায়ন গরিবাত্যায় শল্লাদারী কমিটিয়ে সরকাররে চাপ ন’দিনেই উগুধো শিক্ষে দপ্তরর মাধ্যমে No.F.19(8-11)-DSE/88(2-3)/850-58, dated, Agartala, the 05-09-1995 নং চিধিমূলে ঘোষনা গরিলো যে চাঙমা সাবজেক্ট স্কুলোত বাংলা লেঘাদি চালু অহ্ব’। খবরান শুনোনার লঘে লঘে চেরোপালাত্থুন জগার উধিলো। মায়-মুরুব্বীগুনে শল্লাদারী কমিটির সভানানু অনিল চাঙমারে বেরেই বেরেই ধরিলাক। অজমনে ১১-১২ নভেম্বর’১৯৯৫ তারিগোত এল’ পেজাত্তলত অল ইন্ডিয়া চাকমা কালচার‌্যাল কনফারেন্সর সম্মেলন। ইন্ধি এডিসি ইলেকশন এঝঙ এঝঙ। শুনো যেয়ে, বিবদত্থুন উদ্ধোর ওহ্বত্যায় অনিল চাঙমা দুমুরি যেয়ে মুখ্যমন্ত্রী দশরথ দেবর সিধু। তাত্থুন মু নপে’ই লুহ্ঙেগোই শিক্ষে মন্ত্রী অনিল সরকারর সিধু। এবার অনিল সরকারে তা মিস্টার অনিল চাঙমারে বাজেবাত্যায় যেনেই গরিলো একখান বিরেট ভুল। তে চাঙমা লেঘা চালুর পইদ্যানে ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নিভার আরকানি ন’ গরিনেই সরাসরি নিজ’ ক্ষমতা বলে অনিল চাঙমারে হোই দিলো তোমা চাঙমা অহ্রক্কুন শিক্ষে ক্ষেত্রে ক্লাস থ্রি সঙ চালু গরা অহ্ল’। সরকারী নোটিস নিহ্গিলিলো। যার নাম্বার No.F.19(8-11)-DSE/88(L-3)/1061-73, dated, Agartala, the 02-11-1995।

এ খবরান অনিল চাঙমা শল্লাদারী কমিটির ১৩-১১-১৯৯৫ তারিগোর মিটিঙোত জানেলে সুওদ খুজির বরব’ খেলি যায়। সে দিনোর মিটিঙোত ‘চাঙমা পত্থম পইধ্যা’ নাঙে বইভো শিক্ষে দপ্তরর সিধু অনুমোদনত্তেই পাধানি অহ্য়। সভাত্থুন মুখ্যমন্ত্রীর উদিঝে মাননামা আ প্রেস রিলিজো দিয়ে অহ্য়। রেডিওত, পত্র-পত্রিকাত হুর হুর গরি খবর নিহ্গিলিলো চাঙমা লেঘা চালু ওয়ে ভিলি। মাত্তর না ছাবা অহ্ল’ ‘চাঙমা পত্থম পইধ্যা’ না চালু অহ্ল’ চাঙমা লেঘা। এক বঝর পরে ৩১-০৮-১৯৯৬ তারিগোর শল্লাদারী কমিটির মিটিঙোত জানি পারা গেল’ যে ‘চাঙমা পত্থম পইধ্যা’ বইভোর আহ্দে লেকখে কপি সুমুত্তো গদা চাঙমা ভাষা ভালেদী ফাইল্লো অফিসত্থুন আহ্জি যেয়েগোই।

গদা চাঙমাঘুন রাগে-ধুন্দুগে-আমগে অলর ওহ্লাক। এবার হাম চলিলো তলে তলে, লারে লারে। শল্লাদারী কমিটিয়ে ঠিক দিবঝর পরে ১০-০৮-১৯৯৮ তারিগোত চুর গরি সিদ্ধান্ত গরিলো বাংলা অহ্রক গঝি লোভার। সিয়েন সরকারে তার UO.No.256/Min/Edn/99 dated 01-04-99 চিধি মোতাবেক মানি ল’ল। সে অনুযায়ী ২০০৪ সনর ২১ মে পত্থম বারত্যায় ৯ য়ান স্কুল লোনেই বাংলা লেঘাদি চাঙমা হধা চালু গচ্ছোন। সে পরেধি সিয়েনি একবার ২০ য়ান, আরেকবার ২৯ য়ান – এ দি দফায় বাড়েনেই ইক্কুনু ৫৮ য়ান চাঙমা বামর স্কুলোত বাংলা লেঘাধি চাঙমা ভাষা চালু আঘে। নাঙে চালু অহ্লেয়ো সে স্কুলানিত পড়েবাত্যায় এচ্চে সঙ হন’ মাস্টর রিক্রুট গরা ন’ অহ্য়। সে স্কুলানিত ঘেচ্চেকগরি চাঙমা সাবজেক্ট পড়ানি অহ্র না ন’অহ্র সে উধো লোভারো হন’ গরচ শল্লাদারী কমিটিয়ে মনে ন’গরে।

এই যে ২৭ বঝর ধরি চাঙমা ভাষা ভালেধির নাঙে চিগোনগুরো খারা চলের ইয়েনিত্যাই দায়ী হন্না ? তিবুরার বে’ক চাঙমাঘুনে একলঘে হোভাক, দায়ী শল্লাদারী কমিটি। সরকারে ন’ মানে, আমলাগুনে নানা বাবদর গর দুওন, চাঙমা লেঘার মাস্টর নেই, চাঙমা বই ছাবেই ন’পারে, ফাইল আহ্জি যেয়েগোই, বই আহ্জি যেয়েগোই, লারে লারে চেষ্ঠা গরির – এ বাবদর হন’ যুক্তি দিনেই তারা তারার পাপত্থুন রেহাই ন’ পা’ন।

চাঙমা লেঘা চালু ন’ অহ্নার পিঝেধি আঝল কারনানি তলেধি ছাগি লোভার চেষ্ঠা গরা অহ্ল’ –

১) চাঙমাগুনোর ঔপনিবেশিক মানসিকতা ঃ রোগ চাবি থলে গম নয়। পরাক পরাক গরি হলে ভালা যে, যুগ যুগ ধরি চাঙমাঘুন পরর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক অধীনত্তল থাগদে থাগদে ইক্কুনু শিঙোরসঙ ঔপনিবেশিক মানসিকতালোই আক্রান্ত। যার ফলে আমি ‘রাধামন’রে বানেই ‘রাধা মোহন’ আ ‘ফেজাত্তল’রে বানেই ‘পেঁচারথল’। আমা তেম্মাঙসভাত একজন বেজাদি গরবা এলে আর আমা মুওত্থুন চাঙমা হধা ন’ নিহ্গিলে। যা হিঝু পন্ডিগি জিনিচ আমি তারার ভাষাধি লেঘিবার চেষ্ঠা গরিই কারন ‘তারা’ ন’ বুঝিলে হিচ্ছু লাভ নেই, চাঙমাঘুনদ’ হিচ্ছু নয়। ঠিক এ কারনেই হন’ মিটিঙ সেমিনারত চাঙমা লেঘার দাবী গরিলে আমা শল্লাদারী কমিটির সজাগ চাবাঙীগুনে মনত তুলি দুওন, ‘‘ভেজাল গরিলে ইক্কুনু পেত্তেই সিয়েনিয়ো আর ন’ পেভঙ।” যেন চিগোন গুরোরে বুঝোই পারা, ‘‘পেজাল গরিলে মামা আর পিধে ন’দিবো!” ইয়েনর কারনে চাঙমাগুনে বানা চাঙমা লেঘা নয়, অন্য হন’ দাবীই আদায় গরি ন’ পারন।

২) রুধুকমরা শল্লাদারী কমিটি ঃ তিবুরাত সরকার বদলে, শাসক দল বদলান, শল্লাদারী কমিটির সভানানু আ অন্যান্য মেম্বারুন বদলি যান – মাত্তর একজন ন’বদলে – সে মহা শক্তিশালী মেম্বারবোই বকলমে শল্লাদারী কমিটির সভানানু। বাগী চাবাঙীগুনোরে তে তার মনেমনজক্কাগরি ভরাই। সিগুনোর বেচভাগর হন’ লেঘা-লেগি গরিভার অভিজ্ঞতা নেই। তারাত্থুন সেত্তোমান শল্লাদারী কমিটিত থেবারো মন নেই। সে বলবান মেম্বারবোই কমিটিত তার বলবলা বজায় রাঘেবাত্যায় দুনিয়ে উধিচ নপেয়ে মেম্বারুন গদা তিবুরাত্থুন তোগেই নিহ্গিলায়। গদা তিবুরার চাঙমাগুনোর সমর্থন আঘে, সে বাবদর কাবিল মেম্বারলোই কমিটিবো নুও গরি বানেলে আমার আঝা, মিছিল-মিটিঙ-আন্দোলন হিচ্ছু ন’গচ্ছে গরিই চাঙমা লেঘা চালু অহ্ব’।

৩) মেম্বারুনোর চাঙমা লেঘা ন’ জানানা ঃ বেচভাক মেম্বারেই চাঙমা লেঘা ন’জানন। যার ফলে তারার চাঙমা লেঘার হিত্যা দয়ে নেই, মেয়েয়ো নেই। থেলেদ’ তারা হন আমলত চাঙমা লেঘা শিগিলাক্কুন। এবার সে চাঙমা লেঘা ন’ জান্যে মানুচ্যুনোর আহ্দত যুদি চাঙমা লেঘাদি টেক্সট বই বানেবার ভার পরে তারাধ’ চোঘেদি আন্ধার দেবাগোই। পরর আহ্দদো দায়িত্ব দিবার ন’চান, সালে তারার নাঙর ভুদিবো এক্কা অহ্লে হমিবো। ইন্ধি বাংলাধি অহ্লে তারা চোখ হাহ্দিয়ো লিঘি পারন। সালে পথ বানা একখান, সরকাররে বাঝেই দিনেই চাঙমা লেঘাগান যিঙিরি সিঙিরি ঠেগেই রাঘানা। লাগিলে জমা দিয়ে টেক্সট বোয়ুনো ঘুবেই দেনা। এ নাঙ লোনেই সলাসলি গরানার কারনে বানা চাঙমা লেঘাদি লেকখে বই নয়, বাংলাধি লেকখে চাঙমা টেক্সট বইয়ো ট্রাইবেল ল্যাঙ্গুয়েজ সেলর অফিসত্থুন আহ্জি যেয়োন্নোই একমাত্র বোয়ুন সে মহা শক্তিশালী চাবাঙীবোর লেকখে ন’অনার কারনে। চিত্রা মল্লিকা চাকমা আ গঙ্গ্াজয় চাকমা লেকখে ‘সদরক’ আ অনিল কুমার চাকমা আ ফুলেশ্বর চাকমা লেকখে ‘গণিত’ – এ দিব্যা ক্লাস ওয়ানর বোয়োরে শল্লাদারী জধার ১৫-১০-১৯৮৭ তারিগোর মিটিঙোত অনুমোদন দিয়ে অহয়, মাত্তর সিঘুন আর পরেধি তোগেই সুক পা’ ন’যায়।

ইক্কু দেঘা যোক চাঙমাগুনোর নিজস্ব সুধোমর লেঘা থানা সত্বেয়ো হেত্তেই সরকারে বাংলা অহ্রক গঝি লোয়ে সে পইদ্যানে হনে হি হন। ইয়োত আঝল তিন্নো দলর হধা তুলি ধরা অহ্ল’ ঃ-

১) SCERTঃ–  চাঙমা ভাষা ভালেদী শল্লাদারী কমিটিবো মূলতঃ এ SCERT -র আহ্নজামে হাম গরে। বাংলা, ককবরক, চাঙমা, বিঞ্চুপ্রিয়া মনিপুরী, মনিপুরী এ ভাষাগানির যার যে লাক স্কুলোত পড়িভার বই বানানা তার কাম। তারার মতামত মানবলা ডিরেক্টরে RTI-র আহ্নজামে এক পুঝোরর জুওবত No.F.21(3-1)-TLC/SCERT/97(L)/6049, dt.25-03-2008 চিধি দিনেই তিবুরা চাঙমা ছাত্র জধার কাবিদ্যাঙরে জানেয়ে, বাংলা অহ্রক গঝি লুও ওয়ে চাঙমা ভাষা ভালেদী শল্লাদারী কমিটির হধা মজিম। ১৭ অক্টোবর ২০০৭ সনত সেক্কেনর স্কুল শিক্ষে মন্ত্রী কেশব মজুমদারে চাঙমা ছাত্র-গাবুচ্যার ইক্কো দল তা সিধু চাঙমা লেঘা দাবী গরিনেই ডেপুটেশন দিবাত্যায় গেলে তেয়ো এগই হধা হোয়ে। তা মতে, তোমার (মানে চাঙমাগুনোর) শল্লাদারী কমিটির হধা মজিম তিবুরা সরকােের চাঙমা ভাষার পইদ্যানে বে’ক কামসিরি আহ্দত লয়। তারা যদি চান্নে অহ্য় চাঙমা অহ্রক গঝি লোভার সালে সরকারর হন’ আপত্তি নেই।

২) শল্লাদারী কমিটির চাবাঙীগুনোর মতামত ঃ– ন’জন চাবাঙী, একজন সভানানু আ একজন কনভেনর (শ্যামলী দেববর্মা, ডেপুটি ডিরেক্টর, এসসিইআরটি), জন গদে গদে হন’ জনেই চাঙমা লেঘার মুজুঙো-মুজুঙি বিরোধ ন’গরন। তারা বেচভাগে হন্নে তারায়ো চা’ন চাঙমা লেঘা চালু ওহ্ক, মাত্তর সরকারে ন’মানিলে তারা হি গরিভাক ?

৩) শল্লাদারী কমিটির সভানানুর মতামত ঃ– শল্লাদারী কমিটির সভানানু মানবলা এমএলএ সাহেবে। তেয়ো হধা তুলিলে উগুধো ন’গরে, মাত্তর ইক্কো না ইক্কো দেম অনসুর তুলে। যেমন, ১৭ অক্টোবর ২০০৭ সনত কেশব মজুমদারর হধাঘান শুনোনার হয়েকদিন পরেই সেক্কেনর ‘মাদি’-র কাবিদ্যাঙ কুসুম চাঙমা, সেক্কেনর চাঙমা ছাত্র জধার কাবিদ্যাঙ অনিরুদ্ধ চাঙমা, প্রদীপ চাঙমা সমেত হয়েক জনে তাল্লোই তার মাছমারার ঘরত তেম্মাঙ গরিবাত্যায় যেয়োন। তারে যেক্কে হোয়োন্নোই তিবুরা সরকারে ভিলে তোমা শল্লাদারী কমিটিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেই চাঙমা লেঘা চালু গরি দিবো, তদা তাঙরি তে হলেদে, ‘‘চাঙমা লেঘা চালু অহ্লে হন্না পড়েভ’ ? দুও না মরে সার্টিফিকেটবলা চাঙমা মাস্টর। মুই ইক্কে চাঙমা লেঘা চালু গরি দোঙর।”

তার এ হধাগানর উগুরে ভর দিনেই তিবুরাত CADC-র বলাবলে পেজাত্তল লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলোত তিনমাস্যা চাঙমা লেঘা সার্টিফিকেট কোর্স ২০০৮ সনর ৫ জানুয়ারী ফাঙ গরা ওয়ে আ সিত্তুন ৩৮ জন মাধ্যমিক পাশ ছাত্র/ছাত্রী গমেদালে পাশগরি নিহ্গিলি এচ্যন। আগেধি হোয়েধে সার্টিফিকেটবলা চাঙমা মাস্টর পেলেই তে চাঙমা লেঘা চালু গরি দিবোদে হধাগান পুরি ফেলেই গেল্লে ১২ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিগোত গদা তিবুরা চাঙমা ছাত্র জধার হজমা গঝি ল’না ফাঙ সভাত তে মতামত দিলঘিদে চাঙমা লেঘার ভিলে বিশারদ নেই। যে জাগাত তিবুরাত চলন্দি ককবরক, বিঞ্চুপ্রিয়া মনিপুরী এ ভাষাগানি পড়েবাত্যায় উজু উজু মাধ্যমিক পাশ বা ফেল অহ্লেই চলে, আমা এমএলএ নানুর হেত্তেই চাঙমা লেঘা পড়েবাত্যায় তিনমাস্যা সার্টিফিকেট কোর্সে ন’হুলোর ? হেত্তেই তার চাঙমা লেঘাদি বিশারদ পরানে মাঘের ?

মুজুঙোর পধ

উগুরোর বে’ক হধানি থুবেনেই রিনি চেলে আমাত্থুন শল্লাদারী কমিটির গাফিলতি বার বার নজরত এঝে। যে জাগাত গদা তিবুরার চাঙমাগুনোর তপ্পেত্তুন চাঙমা লেঘাগান স্বীকৃতি পেভার লাড়েয়োত তারা মুজুঙোর সুরোত থেবার হধা এল’ সে জাগাত শল্লাদারী জধার সভানানুভো হাক্কে ইয়েন হাক্কে উভোন হোনেই চাঙমা লেঘার দাবীঘান বিজিদি ফেলেই দেগোই। হয়েকজন মেম্বারেধ’ চাঙমা লেঘার হধা তুলোদেই ডরান। যদি ডরান সালে সিত্তুন পদত্যাগ গরিলেই তারা পারন। আ একজন মেম্বারেধ’ উল্লোগরি চাঙমা লেঘার হধা তুলিলে সভামায় হন’ জনরে অগমান গরদেয়ো তুদি পড়ি ন’থায়। সেয়ান্যা গরি সভামায় তা অগমান গরা হাহ্নাত্থুন বিমল মমেন চাঙমা, ফুলেশ্বর চাঙমা (দুওজন শল্লাদারী কমিটির আগরির চাবাঙী), কুসুম কান্তি চাঙমা – হন’ জন বাদ ন’যান। অথচ তার জানা আঘে, এক হালে মনিপুরীগুনে বাংলা অহ্রক গঝি লোনেই হি ভুল গচ্যন। ইক্কু তারা সরকার সুমুত্তো তারার নিজস্ব ওকখোরুন মনিপুরোত চল গরিভার চাধন, মাত্তর ন’পাত্তন।

সেনত্যায় আমার ইক্কুনু যিয়েন পত্থম দরকার সিয়েন অহ্লদে শল্লাদারী কমিটিত্থুন চাঙমা লেঘার দাবীঘান আদায় গরানা। তাত্তেই কামসিরি এতাভিদিরে শুরু ওয়ে। গেল্লে অক্টোবর মাহ্জর ৩১ তারিখ পত্তি শল্লাদারী কমিটির চাবাঙীগুনোসিধু মুকপাত্তি (Representative) ডেপুটেশন দিয়ে ওয়ে। নভেম্বর মাহ্জর ২৮ তারিখ গণ স্বাক্ষর লোনেই আ ডিসেম্বর মাহ্জর ২৫ তারিখ গণ ডেপুটেশন দিয়ে অহ্ব’। তুও ন’ অহ্লে ইঙিরি লারে লারে গরি আন্দোলন গিয়ের গরিনেই চাবাঙীগুনো ঘর’ মুজুঙে গণ অবস্থান, অনশন এমনকি আমরন অনশন সঙ দরকারমজিম আন্দোলনান টানি নেযা পরিবো। এর মধ্যে ফেব্র“য়ারী মাহ্জর শেজাশেজিত পারিলে গদা তিবুরার চাঙমা বামানিত একখান বাইক র‌্যালী গরিভার আরকানিয়ো ঈজেবর ভিদিরে রাঘা ওয়ে। আন্দোলনর চাবত পড়ি শল্লাদারী কমিটি চাঙমা লেঘা চালু গরিভার সুপারিশ গরিনেই রেজিলিউশন পাশ গরিনেই শিক্ষা দপ্তরর আহ্দত জমা দিলেতে সেক্কে শুরু অহ্ব’ আন্দোলনানর পরর পইদ্যাবো।

শেজহধা

তবে ইয়েনো সত্য হধা যে, বানা সরকারীভাবে চাঙমা লেঘা চালু গরিভার দাবীঘান আদায় গরানাই শেজ হধা নয়। যদি আমি বেচভাগে চাঙমা লেঘা পড়ি ন’পারিই, লেখক-সাহিত্যিক্কুনে চাঙমা লেঘা লারচার ন’গরন আ চাঙমা লেঘাদি পত্র-পত্রিকা, বই-পত্র অনসুর গরি ন’ নিহ্গিলে সালে চাঙমা লেঘা আন্দোলনর আঝল উদ্দেশ্যগানই শিঙোরসঙ বজঙ ওহ্ই যেবগোই।

Advertisements

চাঙমা ভাষা ভালেদি জধার হয়েকখান পুঝোরর জুওপ

গেল্লে দি মাহ্জে দি বার চাঙমা লেঘা দাবী গরিনেই চাঙমা ভাষা ভালেদি শল্লাদারী কমিটি সিধু ডেপুটেশন দিনেই আমার মানবলা শল্লাদারী কমিটির মেম্বারুনে হয়েকখান পুঝোরর তুলোপারা গচ্চোন। আমার মনে অহ্য় সিয়েনি ভেক্কানি ঝাদি মাদি চাঙমা জাদর মুজুঙে ভাঙাচুরো গরিভার দরকার আঘে। ন’অহ্লে সে পুঝোরানিয়ে আমারে অনসুর পিঝেদি টানিবো। হি সেই পুঝোরানি ? এগে এগে তোলেই চা’ যোক –

১॥ চাঙমা মিডিয়াম চালু অহ্লে আমা চাঙমা পুও-ছাবাঘুন ইরুক যুগোর জিদেজিত্যাত লেম পরিবাক নেনা ঃ পুঝোরানর উজু মানে, মা-ভাষন্দি শিক্ষের উগুদো গরানা। যে জাগাত গদা পিত্থিমির বে’ক শিক্ষে কাবিলুনে মা-ভাষন্দি শিক্ষে দিলে বেঘত্থুন গম হন, সবায় ন’পারিলে অন্তত চিগোন’ লক্কে হন’গুরোয় মা-ভাষন্দি শিক্ষে পেলে দোল ভিলি তুলোপারা গরি যেয়োন, সে জাগাত আমা চাঙমা ভাষা দরদী মেম্বারুনে সন্দেহ গরন, আমা হধাদি আমা গুরোগুনে শিক্ষে পেলে হন’ বরবাদ যেবাকনি! তে আমাত্থুন পারা পরাকবাল্যা জাত আর পিত্থিমিত হুধু পা’ যেব’ ? ইয়েন অহ্লদে আমা বুদ্ধিজীবিগুনো উগুরে ঔপনিবেশিক প্রভাপ যে হোত্তোমান তার পতপত্যা প্রমান। আমার মনত রাঘা পরিবো, ন’বুচ্চে গরি মনত ভরেই পরীক্ষে দি দি আমি হয়ত আমা জাদত বড় বড় অফিসার পেভঙ, বড় বড় ডাক্তর-ইঞ্জিনীয়ার পেভঙ – মাত্তর ডাঙর মানুচ ন’পেভঙ।

২॥ চাঙমা লেঘাদি বই ছাবেবার টেন্ডার ধরি পারে পারা পাবলিশার্স আমি হুধু পেভঙ ঃ সরকারী কন্ট্রাক্ট লোনেই বই ছাবাদে সে পাবলিশার্সচোর হয়েকখান ঠায়ঠিক গুনগত মাপকাঠি লাগে। যেমন, হয়েক বঝরধরি তার সে বাবদর বই ছাবেবার এক্সপেরিয়েন্স থা’ পরে। মাত্তর ধাপ থেলে সরকারে বা শিক্ষে দপ্তরে হি সে শর্তগানি সজমজ গরি ন’পারে ? সালে, পত্থম যেক্কে ককবরক বা বিঞ্চুপ্রিয়া মনিপুরী বই ছাবেলাক, সিগুন হন্না ছাবেই দিলো ? ইক্কুনু যে চাঙমা বোয়ুন বাংলা অহ্রগে ছাবা অহ্র সিগুনদ’ সরকারী প্রেসে ছাবেই দে’র। সালে সিগুনো সরকারী প্রেসেই ছাবেই দিবো। ফারক্কান অহ্লদে, বাংলা অহ্রগে অহ্লে আমার বানা পান্ডুলিপি জমা দিলেই ছাবেই দি পাত্তাক আ চাঙমা লেঘাদি অহ্লে আমার কম্পোজ্ড্ কপি জমা দিয়ে পরিবো। ন’ অহ্লে তারা চাঙমা ফন্টে কম্পোজ গরি জানিধাক নয়। ইচ্চে গরিলে সরকারে এসসিইআরটিত বা সরকারী প্রেসত এক জন চাঙমা কম্পোজার রিক্রুত গরিপারে। তিবুরা সরকারে ধারাজ গরিলে সিএডিসি-য়ো বই দিবো ভিলি বার বার জানেয়ে সিধুগোর এডুকেশনর ইএম সুনানু ড. বুদ্ধধন চাঙমা। আঝল হধাগান অহ্লদে, আমা শল্লাদারী কমিটির মেম্বারুনে হয়েকজনে যদি চাঙমা লেঘা জানিধাক সালে পিত্থিমিঘান এত্তোমান আন্ধার ন’ দেলাক্কুন তারা।

৩॥ (ইয়েন বানা হয়েক জনে তুল্লোন্নে) আমি সরকারী চাগুরি গরিই আমি চাঙমা লেঘার হধা তুলি ন’ পারিই ঃ চাঙমা ভাষা ভালেদি জধা ইক্কো সরকারী কমিটি। তার মেম্বারুনোরে নব্ভাচ গরে সরকারে। হন’ জনরে শল্লাদারী কমিটির চাবাঙী নব্ভাচ গরিভার অত্থ অহ্লদে তারে সরকারে হত্তে, তুই আমারে চাঙমা ভাষার হিঙিরি ভালেদ অহ্ব’ সে পইদ্যানে শল্লা-পরামর্শ দে। সালে ‘শল্লা দি ন’পারিই’ হনার মানে সরকারী অর্ডারর উগুধো গরানা। সে উগুধো হধাগানই তিবুরার চাঙমাগুনোরে আমা চাঙমা ভাষা ভালেদি শল্লাদারী কমিটির মেম্বরুনে বুঝাদন। যিগুনে শল্লাদারী কমিটিত থেনেই হোভাক আমি ‘শল্লা দি ন’পারিই’, তারার আর এক্কেনায়ো অহ্লিপ ন’গরিনেই কমিটিত্থুন লামি যেবার দরকার আঘে। সালেই চাঙমা জাদর ভালেত অহ্ব।

৪॥ সভানানুয়ে আরকানি ন’নেযায়, আমি হি গত্তঙ ঃ কমিটিবো হি বানা সভানানুর ? যদি স্যা অহ্দ’ সালে কমিটি বানেবার হন’ দরকার ন’ এল। মিটিঙ ডাগিবাত্যায় হয় জন মেম্বারে সভানানুরে হোয়েন চিধি দুওন ? জধার নিয়ম মজিম হন’ জধার তিন ভাগর দি ভাক মেম্বারে যদি মনে গরন, হন’ পইদ্যানে তেম্মাঙ গরিভার দরকার আঘে সালে সভানানুয়ে তেম্মাঙ ডাগদে বাধ্য। আ তুয়ো যদি ন’ডাগে সালেন মেম্বারুনে সভানানু ছাড়ায়ো তেম্মাঙ গরি পারন। আ তেম্মাঙত বঝিলে সিদ্ধান্তর হধা যদি তুলো অহ্য় সালেয়ো হো যায় বেচ ভাক মেম্বারুনে যদি হন’ হিচ্চুর পইদ্যানে সিদ্ধান্ত নিধাক চা’ন, সালে সিয়েনো সভানানুয়ে মানি নেযাদে বাধ্য। সালে আমি মনে গরিই সভানানুরে বাঝেই দেনা মানে নিজ’ বুগিবো পররে বুগেই দিবার চেষ্ঠা ছাড়া আর হিচ্চু নয়।

উগুরোর হধানিত্থুন তিবুরার চাঙমাগুনে আন্দাচ গরি পারিবাক যে, গেল্লে ২৭ বঝর ধরি তিবুরাত হন বাবদর মানুঝোর শল্লা মজিম চাঙমা ভাষার ভালেত অহ্র। সিগুনোর মুজুঙোত্থুন যে চাঙমা ভাষা ভালেদির ফাইল আহ্জি যেবগোই, বেজাদি উগর হাবর অফিসারুনে যে মনেমনজক্কা গরিভাক, সিয়েনদ’ জানা হধাই। সে বাবদর মানুচ্যুনোর জকমজিম শল্লাদারী জধা আর হয়েক্কো দিন চলিলে চাঙমা জাত্তো যেত্তোমান তলে লামিবো সিত্থুন টানি তুলোদে গুমুত্যা বলীরো হের মের যেব’।

মাদি, নভেম্বর, ২০১০, আট্য বঝর, নাদা-৫৬

চাঙমা লেঘা : মাঘি পেভঙ নিজত্তুন নিজে

চাঙমা লেঘাগান আমার নিজর লেঘা। হন হন পিত্তসদ’ হাঙেলভাঙা পন্ডিগে ইয়েনরে উধোর লোয়ে হলেয়ো চাঙমা লেঘাগান আমি বেঘে নিজর ভিলিই মানিই। পোচপেলে পালক পুওয়ো সদর পুওত্তুন বেচ। আর পিত্থিমির বিজগত দেঘা যায় যে ৯৯% জাদর, এমনকি ইংরেজী ভাষার অহ্রক্কুনো উদোর লোয়ে। সেনত্যাই সে হধাগান চিগোন হধালোই জাগুলুক তুলি দিনেই নিজর ভুদিবো সামেলেয়ে মানুচ ছাড়া ন তুলোন।

ইক্কুনু আমা চাঙমা লেঘাগান মানে চাঙমা জাদর পরানান চাঙমা ভাষ ভালেদি শল্লাদারী জধার আহ্দত। তারাই একমাত্র পারন চাঙমা জাদর পরানানরে বাজেই রাঘেই। শল্লাদারী জধার চাবাঙীগুনে হয়ত নানা জনে নানান হধা হোভাক কিন্তু তারা তারার দায়িত্ব হন দিন খাম ন খেই ন পারিবাক। কারন চাঙমা লেঘা দাবী গরিনেই যে হন মন্ত্রী, নেতা বা অজল হাবর অফিসারর ইধু গেলেই তারা উজু গরি হন, তিবুরা সরকারে চাঙমা ভাষার পইদ্যানে যে হন সিদ্ধান্ত আ আরকানি নেযায় শল্লাদারী কমিটির হধা মজিম। সেনত্যায় চাঙমা লেঘা চালু গরানা ন গরানা গদাঘান তারার উগুরে।

সেবাদে Right to Information Act-র আহ্নজামে সেক্কেনর চাঙমা ছাত্র জধার কাবিদ্যাঙ অনিরুদ্ধ চাঙমা ট্রাইবেল ল্যাঙ্গুয়েজ সেলত্তুন হয়েক্কান পুজোরর জুয়োপ চেলে চাঙমা ভাষ ভালেদি জধার কনভেনর শ্যামলী দেববর্মা পরাক পরাক গরি জানেয়ে যে তিবুরাত বাংলা অহ্রগে চাঙমা হধা চালু গরা ওয়ে শল্লাদারি জধার হধা মজিম। সেনত্যায় ঘুরিফিরি হধাগান যিয়ে সুওত লুঙেগোই। শল্লাদারি কমিটিয়েই একমাত্র চাঙমা লেঘাগান চালু গরিভার মালিক। আর হনজনে নয়।

এ হধাগানর আর’ এককান হত্থা আঘে। আমার ভেক্কুনোর চাঙমা লেঘা শিঘে পরিবো, চাঙমা লেঘা লারচার গরা পরিবো – যদি আমি ঘেচেছকগরি চাঙমা লেঘা পোচপেই। আঝলে আমি যদি ভেক্কুনে জানিই, ভেক্কেিন লারচার গরিই সালে হন জাত বিরোধী শল্লাদারী কমিটিয়েই তারে মাজারা লুগেই দি পাত্তাক নয় আর আমি যদি চর্চা ন গরিই হন’ শল্লাদারি কমিটি বা হন’ সরকারেই তারে তিগেই রাগেই পাত্ত নয়।

মাদি, আগস্ট, ২০১০, আট্য বঝর, নাদা-৫৩

ত্রিপুরায় মাতৃভাষায় শিক্ষার হদ্দমুদ্দঃ চাকমা ভাষা প্রেক্ষিত-ফুল সদক চাকমা

Placard-6

গত ১৪ই আগস্ট ২০১২ মহাসাড়ম্বরে উদ্বোধন হয়ে গেল ককবরক ও সংখ্যালঘু ভাষা উন্নয়ণ ডিরেক্টরেটের। এর এক সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ৭ই আগস্ট ঘোষণা করা হয়েছিল চাকমা ভাষাকে চাকমা হরফে চালু করার ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত। স্বভাবতই ত্রিপুরাবাসী চাকমা জনগণ আবেগে আপ্লুত। যার ফলে ১৬ই আগস্টের ত্রিপুরা রাজ্য চাকমা হরফ দাবী কমিটির বিশাল বিক্ষোভ মিছিলটি বিজয় মিছিলে (প্রকারান্তরে বামফ্রন্ট সরকারকে অভিনন্দন জানানোর মিছিলে) পরিনত হয়ে গিয়েছিল। এখানে বামফ্রন্টের, বিশেষভাবে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কূটনীতির প্রশংসা করতেই হয়। জানা যায় ১৬ই আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী চাকমা হরফ দাবী কমিটির প্রতিনিধিগণকে চাকমা ভাষা উন্নয়নের সকল প্রকার সাহায্য দান তথা অতি সত্বর চাকমা হরফে পাঠ দানের কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে চাকমা ভাষা-ভাষী জনগণ তাদের আন্দোলনের মাধ্যমে কি অর্জণ করেছেন তারা নিজেও জানেন না এবং আমার স্থির বিশ্বাস আন্দোলনকারীগণকে মূখ্যমন্ত্রী সঠিক কি দিয়েছেন তিনি সেটা নিজেও জানেন না। কেন একথা বলছি সে ব্যাপারে পরে আসছি।

সরকারের তথ্য মোতাবেক বর্তমানে ত্রিপুরায় ৯৪৩ টি স্কুলে ককবরক, ৫৮ টি স্কুলে চাকমা, ৪৯ টি স্কুলে হালাম-কুকি, ৩৬ টি স্কুলে বিঞ্চুপ্রিয়া মণিপুরি ও ২৮ টি স্কুলে মণিপুরী ভাষায় পড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ সরকার ত্রিপুরার আদিবাসীদেরকে বা সংখ্যালঘু ভাষার জনগোষ্ঠীদেরকে ১১১৪ টি স্কুলে মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার দিয়েছে। কিন্তু মাতৃভাষায় শিক্ষা পাওয়ার অধিকার দানের নামে ককবরক, বিঞ্চুপ্রিয়া মণিপুরী, মণিপুরী ও হালাম-কুকি ভাষা-ভাষীদের কি হচ্ছে জানা না গেলেও চাকমা ভাষায় শিক্ষা দানের নামে যে ছেলে খেলা হচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে যে কি ভয়াবহ ফলাফল বয়ে আনবে তা ভগবানই একমাত্র জানেন।

২০০৪ সালের মাতৃভাষা দিবসে পেচারতল অঞ্চলের ৬ টি বিদ্যালয়ে (পরবর্তীতে তাতে আরও ৩ টি বিদ্যালয় যোগ করা হয়) চাকমা ভাষায় শিক্ষাদানের ঘোষণার মাধ্যমে ত্রিপুরাবাসী চাকমা জনগণের মাতৃভাষায় শিক্ষায় অধিকার পাওয়ার যাত্রা শুরু হয়। তা ২০০৭ এর ৬ আগস্ট ২০ টি স্কুলে ও ২০১০ এর ২ মার্চ আরও ২৯ টি স্কুলে সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে মোট ৫৮ টি স্কুলে সরকারী ভাষ্য মোতাবেক চাকমা ভাষায় পাঠদান চলছে।

২০০৪ সালে যখন চাকমা ভাষায় শিক্ষাদানের ঘোষণা করা হয় তখন চাকমা জনপদ গুলিতে কিছুটা হলেও খুশীর হাওয়া বয়ে যায়। কিছুটা বলছি এ কারনে যে তাদের সবার ইচ্ছে ছিল মাতৃভাষাকে নিজস্ব হরফে পাওয়ার। কিন্ত তা করা হয় বাংলা হরফে। যার ফলে অনেকেই তার বিরোধ করতে থাকে। তা সত্তে¡ও কোন কোন মহল থেকে যথেষ্ঠ উৎসাহ দেখানো হয়। হাজার হোক মাতৃভাষা বলে কথা। তা যে কোন হরফেই হোক না কেন। কিন্তু ঘোষণার পরে সত্যি সত্যি বিদ্যালয়ে চালু হওয়ার পর চাকমা জনগণ অবাক হয়ে দেখল মাতৃভাষায় শিক্ষার নামে যেটা দেওয়া হয়েছে সেটা একটা মস্ত ফাঁকি ছাড়া আর কিছু ছিল না।

প্রথমতঃ, চিহ্নিত বিদ্যালয় গুলিতে চাকমা ভাষায় শুধু একটি মাত্র বিষয় চালু করা হল। বলা হল সেই বিদ্যালয়ে পাঠরত চাকমা ছাত্র-ছাত্রীরা ইচ্ছে করলে অতিরিক্ত একটি বিষয় (অর্থাৎ চাকমা) নিতে পারবে।

দ্বিতীয়তঃ, এখানে মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রাথমিক শর্তটিই (কারন এখানে শিক্ষার মাধ্যম অন্য ভাষাই থেকে যাচ্ছে) লঙ্ঘিত হল। অধিকন্তু অধিকার পাওয়া জনগোষ্ঠীর কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’দুটি ভাষার বোঝা বহন করতে বাধ্য করা হল। জানা গেছে ১৬ই আগস্ট সাক্ষাতকারকালে মুখ্যমন্ত্রী সব বিষয় গুলি চাকমা ভাষায় করা অথবা একটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি চাকমা হরফ দাবী কমিটির প্রতিনিধিদের উপর ছেড়ে দিলেও বিষয়ান্তরে তিনি একটি বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষেই সওয়াল করেছেন। অর্থাৎ সোজা কথায় তিনি মাতৃভাষায় শিক্ষার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি নাকি ককবরক ভাষায় পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীদের উত্তোরত্তর খারাপ ফলাফলের কথা উল্লেখ করেছেন। ককবরক ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করলে নাকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি ডিঙিয়েও (মানে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠলেও) ছাত্র-ছাত্রীরা নিজের নাম দস্তখত করতে পারে না। এটা যে ত্রিপুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে প্রাথমিক শিক্ষার বাস্তবতা তা স্বীকার না করে তিনি দোষ চাপিয়ে দিয়েছেন ককবরক ভাষার উপর। সকল কালের সকল দেশের শিক্ষাবিদদের মতামতকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলতে চেয়েছেন, মাতৃভাষার বদলে অন্য ভাষায় শিক্ষা দিলেই ছাত্র-ছাত্রীরা ভাল শেখে। স্বাধীনতার ৬৬ বছর পরে এই প্রকারের ঔপনিবেশিক মানসিকতা সত্যিই দুঃখজনক। তবে হ্যাঁ, ত্রিপুরার লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা বা যোগাযোগের ভাষা হিসেবে বাংলাকে এবং ভারতের কমার্সিয়াল বা উপার্জনের ভাষা হিসেবে ইংরেজিকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারবো না। তাই বলে আমরা একটি অবুঝ শিশুকে সে ভাষাগুলি শেখানোর মাধ্যমে তার জীবনের শিক্ষার পর্ব শুরু করতে চাইবো তা কোন শিক্ষাবিদই সমর্থন করবেন না।

তৃতীয়তঃ, চাকমা ভাষা-ভাষী ছাত্র-ছাত্রীদের অতিরিক্ত একটি বিষয় পড়ানোর কারনে তাদের পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে অন্যান্য ভাষার ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল তুলনা করা দুরূহ হয়ে উঠল। কারন একটি বিষয় বেশী হওয়ার কারনে স্বভাবতঃই চাকমা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাপ্ত মোট নম্বর বেশী হয়ে যাচ্ছিলো। শোনা যায় এ ধরণের অভুতপূর্ব সমস্যার মুখোমুখি হয়ে অনেক চাকমা ভাষায় পঠন-পাঠন করার জন্য চিহ্নিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁদের নিজ নিজ বিদ্যালয় পরিদর্শকের দরবারে সমস্যা সমাধানরে দিগনির্দেশের জন্যে উপস্থিত হয়েছিলেন। বলাবাহুল্য, ওঁরা কেউই এই অস্বাভাবিক সমস্যার সমাধান বাতলাতে পারেননি। চতুর্থতঃ, যেহেতু চাকমা বিষয়টিকে প্রথম থেকেই একটি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে চালু করা হয়নি এবং পাশাপাশি অন্য সব বিষয় মাতৃভাষার বদলে অন্য আরেকটি ভাষায় শেখানো হচ্ছিল, তাই অনেক চাকমা ছেলে-মেয়ে নিজের ভাষার বিষয়টিকে ধীরে ধীরে একটি অনাবশ্যক বোঝা বলেই মনে করতে থাকলো এবং ত্রিপুরার চাকমা জনগনেরও তথাকথিত মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণের মোহ কাটতে থাকলো। তার উপরে আছে নিজস্ব হরফ থাকা সত্তে¡ও অন্য একটি হরফ চাপিয়ে দেওয়ার চাপা ক্ষোভ। এর ফলে দেখা গেল চাকমাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার দেওয়ার ৬ বছরের মাথায় ২০১০ সালে যখন আরও ২৯ টি বিদ্যালয়ে চাকমা ভাষায় পঠন-পাঠনের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে তখন তথাকথিত মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণে কেউ আর উৎসাহী নয়। আজ ২০১২ সালের মাঝামাঝিতে এসে মুখ্যমন্ত্রী যখন সংখ্যালঘু ভাষা গুলির উন্নতির জন্য পৃথক ডিরেক্টরেট গঠণ করছেন, চাকমা ভাষাকে চাকমা হরফে চালু করার কথা ঘোষণা করছেন তখন দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় যে সরকার ঘোষিত ৫৮ টি বিদ্যালয়ের কোন বিদ্যালয়েই আর চাকমা বিষয় পড়ানো হয়না।

তার চাইতেও দুঃখজনক ব্যাপার হল যেসব চাকমা ভাষা ও চাকমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কবিহীন সদস্যদের নিয়ে চাকমা ভাষা উন্নয়ন উপদেষ্ঠা কমিটি গঠণ করা হয়েছিল তাদের কেওই এসব সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়াতো দূরের কথা কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা তার খবর নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেননি। শোনা যায় বিদ্যালয়গুলিতে চাকমা ভাষায় সঠিকভাবে পঠন-পাঠন হচ্ছে কিনা তার খোঁজ না রাখার জন্য উপদেষ্ঠা কমিটির সভাপতি বিধায়ক অরুন কুমার চাকমা সহ সকল সদস্যদের বিদ্যালয় শিক্ষামন্ত্রী তপন চক্রবর্তীর কাছে কয়েকবার গালমন্দও শুনতে হয়েছিল। চিহ্নিত বিদ্যালয়গুলি নিয়মিত ভিজিট করতে যাওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীনাকি প্রয়োজনবশতঃ যানবাহন দেবারও প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু এসব স্বঘোষিত চাকমা ভাষা উন্নয়ণকারীদের কেউই সে কথায় কর্ণপাত করেননি। কারণ কমিটিতে কে কে আছে সে হিসেবেই ওনারা কমিটির মূল্যায়ণ করতে অভ্যস্ত কমিটিটি কি কি কাজ করলো সে হিসেবে নয়।

তাই বলছিলাম, আন্দোলনকারীগনকে মুখ্যমন্ত্রী চাকমা ভাষা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন, এর আগেই আগামী শিক্ষা বর্ষ থেকে চাকমা ভাষাকে চাকমা হরফে চালুর ক্যাবিনেট সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা দিয়েছেন, সবই ঠিক আছে। কিন্তু মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুয়োগ, যা সরকার ইতিমধ্যেই দিয়ে রেখেছেন তার প্রকৃত বাস্তবায়নে যে যে প্রতিবন্ধকতা গুলি দেখা দিয়েছিল সেগুলির কোন সমাধান সূত্র কি তিনি দিয়েছেন ? সব আন্দোলনকারীই বলবেন, না। তাহলে ? আর খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেই যদি সমস্যাগুলির সমাধানের কোন রাস্তা সত্যি সত্যি জিগ্যেস করা হোত তাহলে আমার মনে হয় ওনার সরকারের বিদ্যালয় পরিদর্শকগুলির মতোই তিনিও হতবাক হয়েই চেয়ে থাকতেন।